শেখ মুজিব-তাজুদ্দিনরা বিজয়ের ভার বইতে পারেননি

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর, পেছেন ফিরে তাকালে ও সঠিকভাবে এনালাইসিস করলে, এটা পরিস্কার হবে যে, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেব স্বাধীনতার গুরুত্ব, ওজন না বুঝে, পুরোটা নিজেদের কাঁধে নিয়ে নিজেরা হয়রাণ হয়ে গিয়েছিলেন; এত মানুষের শ্রমের, রক্তের স্বাধীনতা ছিল অনেক ওজনের, বিশাল ও ব্যাপক; অপরিসীম আশার। মাদাম কুরী, নাকি উনার স্বামী ইউরেনিয়ামের রেডিয়েশনের গুরুত্ব অনুমান করতে না পেরে, পকেটে ছোট বোতলে বহন করে প্রাণ হারায়েছেন।
ফিডেল কাস্ট্রো সেই ওজন একা বহন করেনি; ফিডেল ৮২ জনকে নিয়ে কিউবায় প্রবেশ করেছিলেন, যুদ্ধ শেষে ২০ জন বেঁচেছিলেন; সেই ২০ জনের সাথে আরো ২০০০০ ছিল, ফিডেল সবার মাথায় সেই ওজন তুলে দিয়েছিলেন।
মাও এত বড় চীন দখল করার সময় কয়েক লাখ মানুষ উনার দলে ছিল, লাখ মানুষ প্রাণ হারায়েছিলেন; যুদ্ধের শেষে মাও সবাইকে নিয়ে, সেই দেশ গড়েছিলেন; সেই জাতি আজ বিশ্বের ১ নং অর্থনীতি।
লেনিনকে আরো চড়া মুল্য দিতে হয়েছে; রাশিয়ান সিভিল-ওয়ারের পর, মানুষ ইস্পাতে পরিণত হয়েছিলেন; লেনিন তাদেরকে বিশাল রাশিয়া থেকে সোভিয়েত গঠনের কাজ দিয়েছিলেন; সবই ঘটেছে, আজও রাশিয়নরা বিশ্বে শক্তিশালী জাতি হিসেবে টিকে আছে।
১ লাখ ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও ৬ কোটী মানুষের অপরিসীম কস্টে অর্জিত দেশটাকে একা শেখ সাহেব চালাতে গেলেন, একা তাজুদ্দিন সাহেব চালাতে গেলেন; সাথে নিলেন শেখ ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমেদ, আরো কি সব ৪ খলীফা মলিফাদের, যারা যুদ্ধের খবর পেয়েছেন রেডিও’তে, যারা পড়ালেখা করেছেন মধুর ক্যান্টিনে; এত কস্টে অর্জিত দেশ, এত বড় আশার দেশ একা এদের পক্ষে চালাতে পারার কথা? না বুঝে অনেক বেশী ওজন নিয়েছিলেন উনারা; মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ এনেছিলেন, তাঁরা এই ভুমির জন্য মুল্য দিয়েছিলেন, তাঁরা জাতিকে বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁরা আজীবন ফ্রি খেটে যেতে পারতেন; শেখ সাহেব তাঁদেরকে কোন ভার না দিয়ে নিজেই সব টানতে গেলেন!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.