যশোরে ছাত্রলীগের সম্মেলন, প্রার্থীরা বিবাহিত ও সন্ত্রাসী

আগামী ১০ জুলাই যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এ সম্মেলন নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে। সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘ঘায়েল’ করতে ইতোমধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে চলেছেন কেন্দ্রে।
সূত্র মতে, ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে এবারও একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ৪০ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। মনোনয়ন সংগ্রহকারীরা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও এমপি কাজী নাবিল আহমেদ গ্রুপের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। ফলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের পছন্দের ৮-১০ জনের বেশি শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থী থাকবেন না মনে করা হচ্ছে।
এরমধ্যে সভাপতি পদে শাহীন চাকলাদার পক্ষের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মাসুদ হিমেল, এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রনি ও সদর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন।
আর সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক সাগর রহমান, সদস্য সালসাবিল আহম্মেদ জিসান, আরিফুর রহমান সাগর, কাজল রহমান, এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিমের নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে এমপি নাবিল গ্রুপ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম জনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সর্দার আলোচনায় রয়েছেন। আর সম্পাদক পদে কমার্স কলেজের কায়েস আহম্মেদ রিমু, এমএম কলেজের সহসভাপতি ইমরান হোসেন, ছাত্রনেতা কাজী রিফাতুজ্জামান ও শহরের বকচরের বাসিন্দা কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাকির হোসেন জুম্মান নাবিল গ্রুপের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। তবে পছন্দের প্রার্থীর এই দীর্ঘ তালিকা সম্মেলনের দিন আরও ছোট হবে এমনটি জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লুৎফুল কবীর বিজু।
এদিকে, সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থীদের বয়স, ছাত্রত্ব, বিবাহিতসহ যোগ্যতার শর্তে ঘায়েল করতে উঠে পড়ে লেগেছেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠানো তথ্য মতে, শাহীন চাকলাদার পক্ষের সভাপতি প্রার্থী রওশন ইকবাল শাহী বিবাহিত। শহরের ডালমিল এলাকার সাগরের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছেন। আরেক সভাপতি প্রার্থী শরীফ মাসুদ হিমেলের বিয়ের বয়স ৪ থেকে ৫ বছর। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক কাজল, সালসাবিল জিসান হত্যা মামলার আসামি।
অপরদিকে এমপি নাবিল গ্রুপের সভাপতি প্রার্থী সাঈদ সর্দারের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপের জন্য তাকে যশোর জেলা ছাত্রলীগ থেকে ইতোপূর্বে বহিষ্কারও করা হয় বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। অপর সভাপতি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম জনির ছাত্রলীগ করার বয়স নেই। আর সম্পাদক পদে নাবিল গ্রুপের যারা প্রার্থী তারা ছাত্ররাজনীতিতে অপরিচিত মুখ বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আকুল হোসাইন।