প্রসঙ্গ এমসি কলেজঃ ছাত্রলীগের ছাত্রাবাস জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি

ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস কারো অজানা নয়। তাদের অবদানও স্বীকৃত। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী তাদের সন্ত্রাস, টেন্ডার, ভর্তিবাণিজ্য ও অনৈতিক কাজে সরব অংশগ্রহণ জাতিকে আশাহত করেছে। এর প্রভাব অন্যান্য লেজুড়বৃত্তিক, ব্যক্তিতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলোকেও সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত করেছে। যেখানে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে নিরাপদ আর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে প্রতিপক্ষ অথবা আন্তঃকোন্দলে ছাত্রহত্যা মিডিয়ায় নিত্যনৈমিত্তিক খবরের অংশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এ সরকারের শুরু থেকে ছাত্রলীগের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের দায়িত্বভার থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে বুদ্ধিজীবীরা বারবার পরামর্শ দিয়েও ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে কোনো সুরাহা করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এর পরও ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্র্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরব অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এখন তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে ছাত্ররাজনীতি মানে আতঙ্ক আর আশঙ্কার নাম। ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত অধিকাংশের ছাত্রত্ব নেই। বিবাহিত, সন্তানের জনক, ব্যবসায়-বাণিজ্য, মাদকাসক্ততা ইত্যাদি অভিযোগ তাদেরকে ঘিরে রেখেছে। বাস্তব অবস্থাও তাই। ২০১১ সালে ছাত্রলীগের পাবনা জেলা কমিটি গঠনের আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ছাত্রলীগের রক্ত পরীক্ষা করে তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করে জেলা কমিটিতে মনোনয়ন দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের অপরাধ প্রবণতা দেখে কেউ কেউ ডাকাতের গ্রাম বলে সম্বোধন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা মানিকের ধর্ষণের সেঞ্চুরি কারো অজানা নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আগে থেকে সন্ধ্যা আইনের প্রচলন ছিল। সরকার ছাত্রশিবিরকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করার পর এখন দিন দুপুরেও ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ইভটিজিংসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুপুর আইন পাস করতে বাধ্য হয়েছে।
২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে সরকারের মদদপুষ্ট প্রশাসন ও ছাত্রলীগ-বিরোধী মতের অনুসারী ছাত্রদের ওপর জেল-জুলুম, হত্যা, গুম ও নির্যাতন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০১০ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি রাবি ছাত্র ফারুক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সারা দেশে একযোগে শিবিরের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালিয়েছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সফর করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় পদ্মা সেতুর জন্য কথিত তহবিল সংগ্রহের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গত ১৫ জুলাই একই ক্যাম্পাসের ছাত্র ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি গ্র“পের গোলাগুলিতে আব্দুল্লাহিল সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর জন্য কী পদক্ষেপ নেবেন? বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কথায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলে ‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের’ বিচারকার্য বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিরোধী দলগুলোর ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।