ধর্ষণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা৷

আদিবাসী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের জন্য কারা দায়ী?
রাঙামাটির বিলাইছড়িতে ধর্ষণের ঘটনাটি ‘আর্মির পোশাক পরা’ লোকজন ঘটিয়েছে বলে ঘটনার শিকারদের উদ্ধৃত করে অভিযোগ করেছেন চাকমা রানি ইয়েন ইয়েন৷ সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, আটক হয়েছে আনসারের এক সদস্য৷
বিলাইছড়িতে ২১ জানুয়ারি রাতে দুই মারমা সহোদরা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন৷ এঁদের একজন ১৮ বছরের তরুণী, যিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ আর তাঁর ১৪ বছরের কিশোরী বোন হয়েছেন যৌন নির্যাতনের শিকার৷ সেনাবাহিনীর সার্চিং অপারেশন চলাকালে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ৷ এই মুহূর্তে এঁরা দু’জন রাঙামাটি সদর হাসাপাতালে আছেন৷ হাসপাতাল ছাড়তে চাইলেও তাঁদের সেখানে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানা গেছে৷ হাসপাতালে তাঁদের দেখতে যাওয়া মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বঞ্চিতা চাকমা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তাদের একজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ অথচ এখনো কোনো মামলা হয়নি৷ তারা ভয়ের মধ্যে আছেন৷ জেলা প্রশাসক একটা প্রতিবেদন দেবেন৷ ঐ প্রতিবেদনের পরে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব৷’’
তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘দুই বোনের মধ্যে একজন বাংলায় কথা বলতে পারে না, চাকমাও পারে না৷ ছোট বোন কিছুটা বাংলা বলতে পারে৷ সে জানিয়েছে যে, আর্মিরা ছিল ওখানে৷ আর্মি করেছে বলে জানিয়েছে সে৷’’
‘এখনো কোনো মামলা হয়নি, তারা ভয়ে আছেন’
মেয়েটি পোশাকের কোনো বর্ণনা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ওরা আর্মির পোশাকের কথা বলেছে৷’’
এদিকে রাঙামাটি সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ঐ দুই বোনকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘তাঁদের ভাষ্য অনুসারে, যা আমি অনুবাদের মাধ্যমে জানলাম, তাঁদের একজন ধর্ষিত হয়েছেন দু’জন সেনাসদস্য দ্বারা (প্রাপ্ত বয়স্ক বড় বোন, যিনি কেবল মারমা ভাষায় কথা বলেন এবং অপরজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, একই ব্যক্তিদের দ্বারা)৷’’
দেবাশীষ রায়ের সঙ্গে হাসপাতালে যান তাঁর স্ত্রী এবং চাকমা রানি ইয়েন ইয়েন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্য বঞ্চিতা চাকমা৷ চাকমা রানি ইয়েন ইয়েন আলাদা আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘তারা বলেছে, আর্মিদের পোশাক পরা লোকরা চর্ট লাইট নিভিয়েছে, কথা বলতে দেয় নাই৷’’
রানি ইয়েন ইয়েনের দাবি, ‘‘অনেক বাধা পেরিয়ে তাদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে যেতে হয়৷ তারা সেখানে যাতে না যেতে পারেন, সেজন্য নানা ধরনের অজুহাত দেখানো হয়৷ এমনকি তাদের সঙ্গে মারমা ভাষায় কথা বলতেও বাধা দেয়া হয়৷ হাসপাতালে ওই দুই বোনকে সব সময় ঘিরে আছে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা৷’’
‘ তারা যে শব্দটা বলেছে তা বাংলায় অনুবাদ করলে সেনা দাঁড়ায়’ (ফাইল ফটো)
রাজা দেবাশীষ রায় ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘তাঁরা বলেছেন, ‘সেটা সেনা না খাকি কাপড় তা আমরা জানি না৷’ তবে তাদের ভাষায় তারা যে শব্দটা বলেছে বাংলায় অনুবাদ করলে সেনা দাঁড়ায়৷ আসলে সেটা সেনা, না বিজিবি, না পুলিশ, না আনসার, সেটা তো আমরা বলতে পারব না৷’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘ঐ দুই বোন এখন হাসপাতালে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় আছেন৷ কোনো মামলা হয়নি৷ আমরা মানবাধিকার কমিশনকে অনুরোধ করেছি তাঁদের যেন আইনজীবী দেয়া হয়৷ মারমা ভাষা জানেন এমন আইনজীবীও আছেন৷’’
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক কর্ণেল রাশেদুল হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সেনা সদস্যরা সেখানে সার্চ করছিল৷ কিন্তু যেখানে সার্চ করছিল, মেয়েরা সেই বাড়ির না৷ ওটা তার আশেপাশের একটা বাড়ি, যে বাড়িতে একজন আনসার সদস্য ঢুকেছিল৷ আনসার সদস্য যখন ওখানে ঢোকে, তখন মেয়েগুলো চিৎকার করে ওঠে৷ চিৎকার করার পর পরই আমাদের আর্মির পেট্রোলে যারা ওখানে ছিল, তারা ছুটে যায় এবং আনসার সদস্যকে আটক করে৷ তাকে আটক করে আনসার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷’’
‘তারা অস্ত্রধারী লোকজন দেখে চিৎকার ও কান্নকাটি শুরু করে’
রাঙামাটির শিলছড়ি ১০ আনসার ব্যাটেলিয়নের কমান্ডিং অফিসার আফজাল হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সেবাহিনীর সার্চিং অভিযানে আনসার সদস্যরাও তাদের সহায়তায় যোগ দিয়েছিল৷ ঐ বাড়িতে পরনো সদস্য আছে কিনা তা দেখতে সার্চ চলছিল৷ আনসারের সুবেদার গিয়াস উদ্দিন তা দেখতে ঘরের মধ্যে লাইট মারে৷ সেখানেই মেয়ে দু’জন ছিল৷ ছিল তাদের ছোট ভাইও৷ তারা অস্ত্রবাহী লোকজন দেখে চিৎকার ও কান্নকাটি শুরু করে৷ আনসার সদস্য ঘরের ভিতরে ঢুকেছিলেন আর একজন সেনাসদস্য বাইরে গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ সার্চ করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না৷ আমরা আনসার সদস্যকে ক্লোজড করেছি৷’’
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে৷ কর্তব্যরত নার্সের সাথে কথা বলে যেটা জেনেছি, দুই বোনের মধ্যে একজনের অবস্থা খারাপ৷ তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে তা জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে৷’’
চাকমা রানি ইয়েন ইয়েন রাঙামাটির সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, সন্ত্রাসীদের তল্লাশি চালানোর নামে ঐ ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে৷ এ সময় ছোট বোনকে যৌন হয়রানি করা হয় এবং বড় বোনকে ধর্ষণ করা হয়৷’’ এ কথা তিনি ফেসবুক পোস্টেও বলেন৷

11 Comments

  1. তোকে যদি দেশে দেখতে পাই একদম বেয়োনেট দিয়ে খুচিয়ে মেরে ফেলবো

  2. তোকে যদি দেশে দেখতে পাই একদম বেয়োনেট দিয়ে খুচিয়ে মেরে ফেলবো

  3. তোর মাকে কি পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ধর্ষণ করসিলো? নাহলে তোর মতো বেজন্মা পয়দা হলো কিভাবে?

  4. আমাদের গর্ব আমাদের সেনাবাহিনী। তাদের কে নিয়ে কটুক্তি কিন্তু একদম সহ্য করবো না।

  5. তুই ভুল জায়গায় হাত দিয়েছিস। এর খেসারত তোকে দিতেই হবে

  6. I’m also writing to make you know what a useful encounter our daughter had studying your web page. She came to find numerous things, with the inclusion of what it is like to have an awesome teaching nature to make many people very easily know a variety of very confusing subject matter. You really exceeded visitors’ desires. Many thanks for presenting the invaluable, dependable, revealing not to mention cool thoughts on that topic to Mary.

  7. I simply had to say thanks all over again. I am not sure the things I would’ve worked on without the opinions discussed by you directly on that situation. It had become an absolute hard situation for me, but discovering the specialised fashion you dealt with that made me to leap with fulfillment. I’m just grateful for this work and thus hope that you really know what a great job you have been carrying out instructing many people via your web blog. Probably you have never encountered any of us.

  8. I needed to create you that little bit of observation to give many thanks as before just for the nice techniques you have shown in this article. It was really unbelievably open-handed with you to allow unreservedly just what a lot of people could possibly have made available as an ebook to get some bucks for their own end, certainly given that you could have tried it in case you wanted. These things in addition acted to be the fantastic way to fully grasp the rest have the identical dreams like mine to figure out very much more concerning this issue. Certainly there are some more pleasant situations up front for many who scan your website.

  9. I actually wanted to compose a simple word to be able to express gratitude to you for some of the superb recommendations you are giving on this site. My time-consuming internet investigation has at the end been recognized with reputable facts to go over with my two friends. I would mention that we visitors are definitely lucky to exist in a fantastic site with many brilliant individuals with very helpful basics. I feel pretty fortunate to have discovered your website and look forward to so many more excellent moments reading here. Thanks again for a lot of things.

  10. I simply desired to thank you very much all over again. I do not know the things I would’ve tried in the absence of these suggestions revealed by you directly on this field. It actually was the challenging situation in my position, however , observing your specialised fashion you resolved the issue made me to weep with gladness. Extremely grateful for this support and in addition wish you find out what a great job you’re doing instructing the mediocre ones by way of your website. I know that you’ve never got to know any of us.

  11. I wanted to draft you the very small note so as to give many thanks yet again regarding the amazing tactics you’ve provided in this article. It has been really incredibly generous of people like you giving publicly just what many of us would’ve advertised as an e book to generate some bucks for themselves, mostly since you could possibly have tried it in the event you considered necessary. Those suggestions in addition served to be a fantastic way to fully grasp other people online have the identical passion just as my own to find out good deal more related to this issue. I am sure there are millions of more pleasurable situations up front for folks who go through your blog.

Leave a Reply

Your email address will not be published.