জঙ্গিবাদের উৎস কোথায়?

জঙ্গিবাদের ইতিহাস অনেক পুরনো। এটা মানবের বিকাশের সাথে সাথে জন্ম হয়েছে। সন্ত্রাসের ইতিহাস ততটুকুই পুরনো যখন থেকে মানুষ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য হিংস্রতার ব্যাবহার করেছে। প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাস বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে ছিল, এবং এটি ইউরোপ থেকে মধ্যে প্রাচ্যের সকল স্থানেই ছিল (Zalman 2015), সন্ত্রাস সব সময় এক রকম (অথবা এ রকম) ছিল না। এর ইতিহাস যতটুকু মধ্য প্রাচ্যের ততটুকুই ইউরোপিয়ান, এবং যতটুকু ধর্মীয় ঠিক ততটুকু সেকুলার বা ইহজাগতিয় বা ধর্মনিরপেক্ষ (Roberts 2002)। পৃথিবীর ইতিহাসের বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসের উত্থান দেখা যায়। পৃথিবীর প্রথম আধুনিক সন্ত্রাস দেখা যায় ফ্রান্সে। সন্ত্রাসের প্রথম সংজ্ঞা দেওয়া হয় ফ্রেন্স একাডেমী থেকে ১৭৯৮ সালে, যা ছিল ‘ত্রাসের শাসন অথবা ব্যবস্থা ‘(Roberts 2002)। এটা আমাদের ভাল করে মনে করিয়ে দেয়, সব থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাস হল স্বৈরাচার সরকার যখন এর নিজের নাগরিকদের উপর সন্ত্রাস চালায়। টেররিসম যেকোন আইডলজি বা ধর্ম বা মতবাদ থেকে আসতে পারে। Kullberg and Jokinen, 2004 এর মতে, টেররিসম নিজে কোন মতবাদ নয়, এটার কোন সম্মেলিত রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই, প্রকৃত পক্ষে, যে কোন মতবাত একজন সন্ত্রাসীর দ্বারা ব্যবহৃত (বা দাবীকৃত) হতে পারে।

সন্ত্রাসের উৎসঃ
ঐতিহাসিক উৎস: মানুষ নিজেদের দাবী আদায়ের জন্য শক্তি প্রয়োগ করেছে, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সন্ত্রাসের ইতিহাস হল মানব ইতিহাসে রাজনৈতিক চর্চার অংশ যা, হিংস্রতা এবং ভয় দেখানোর রূপে সব সময় বল প্রয়োগের ব্যবস্থা হিসাবে আমাদের ইতিহাসে ছিল (Leeman, 1987) । অর্থাৎ, সন্ত্রাস বা টেররিসম কোন নতুন কিছু নয়। মানুষ সব সময় সন্ত্রাসের ব্যাবহার করেছে নিজের রাজনৈতিক চাওয়া-পাওয়ার জন্য। একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, আলেকক্সেণ্ডার দ্যা গ্রেইট একবার এক জলদুস্যকে এরেস্ট করিয়ে নিজের সামনে নিয়ে আসলেন। তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কেন ‘জলদস্যুতা’ কর? সে উত্তর দিল, মহারাজ, আমি যে কাজটা একটা জাহাজ নিয়ে করি, সেই কাজটা আপনি হাজারটা জাহাজ নিয়ে করেন বলেই আপনি মহারাজ, আর আমি জলদস্যু। লোকমুখে এই কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, ‘একজনের কাছে সন্ত্রাসী আরেকজনের নিকট মুক্তির সৈনিক’ (Roberts, 2002), কথাটা পুরোপুরি মিথ্যা নয়। অর্থাৎ, সন্ত্রাস দাবী আদায়ের মাধ্যম হিসাবে বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ধারায় যেকোনো সময় সন্ত্রাসের উৎপত্তি এবং বিকাশ ঘটতে পারে।

ধারনা করা হয়, পৃথিবীতে প্রথম সন্ত্রাসের ব্যবহার হয়েছিল দখলদার রোমানদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী ইহুদীদের দ্বারা। Zalman 2015, এর মতে, সিকারিরা (Sicarii) ছিল প্রথম শতাব্দীর ইহুদীদের দল যারা শত্রু এবং তাদের সাহায্যকারীদের হত্যা করেছিল রোমান শাসন থেকে জুদায়াকে (যেমন: জেরুজালেম) মুক্ত করতে। ইসমাইলি হাসা-সিন বা আল হাসা-সিন (এখান থেকে এসাসিন শব্দের উৎপত্তি) দের কেও এক অর্থ সন্ত্রাসী বলা যায়, যারা নিজেদের রাজনীতির প্রয়োজন গুপ্ত হত্যা চালাত। আধুনিক যুগের প্রথম সন্ত্রাস বা টেররিসম কথাটা ব্যবহার করা হয় ফ্রান্সের বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে, যা তারা নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এর ন্যায্যতা বা জাস্টিফিকেইশনের প্রয়োজনে বিপ্লবী সরকার রক্ষার দোহাই দিয়েছিল। এদের কথা স্মরণ করেই, Robarts 2002, “বলেন, সব থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাস হল স্বৈরাচার সরকার যখন এর নিজের নাগরিকদের উপর সন্ত্রাস চালায়”| তারপর, কালের ঘড়ি চলেছে বহুদিন, আর সন্ত্রাসও হয়ে বিভিন্ন নামে এবং গুষ্টির দ্বারা।

রাজনৈতিক কারণ: টেররিসমের প্রধান এবং অন্যতম কারণ হল রাজনৈতিক। রাজনৈতিক ভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী টেররিসম বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের কথা বা ক্ষোভ প্রকাশ করে। পৃথিবীতে রাজনীতির কারণে সন্ত্রাস বা টেররিসম বহুকাল ধরেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, কিন্তু কৌশল এবং নামের পরিবর্তন হতে পারে। Bekir Ciner 2009, এ বিষয়ে একটি মিল পেয়েছেন, যা তিনি নিচের ছবি দ্বারা প্রকাশ করেছেন।

তাঁর মতে, টেররিসম বা সন্ত্রাস হল একটি ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ যা রাজনিতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। তিনি উল্লেখ করেন তার পূর্বের গবেষকের কথা যে, অর্থাৎ, যদি রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভালভাবে চলে, তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে না, কিন্তু যদি রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভাল করে না চলে, তাহলে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়বে এবং এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর (Çınar, 1997) ।

“(t)errorism can be interpreted as a desperate response of the growing number of weak or powerless groups challenging the rigidities of frontiers, power and resource distribution underpinned by the current international system”(Wilkinson,1977)
অর্থনৈতিক কারণঃ  অর্থনৈতিক অসমতার কারণেও সন্ত্রাস তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে দুই দল দেখা যায়, যারা সন্ত্রাসের নেতৃত্ব দেন, বা সন্ত্রাস তৈরি করেন এবং যাদের দিয়ে সন্ত্রাস করা হয়। অনেক গরীব মানুষকে টাকা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। যেমন: অনেক পেট্রোল বোমা হামলায়, অনেক গরীব ছেলেকে ব্যবহার করা হয়, যাদের কোন রাজনৈতিক অভিলাষ নেই, বরং সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে  তারা সন্ত্রাসের কাজ করে থাকেন। আবার দরিদ্রতার কারণেও সন্ত্রাস তৈরি হয়, তারা সাধারণত শিক্ষিত দরিদ্র অথবা ধনী যেকোনো ফ্যামিলি থেকে আসতে পারেন। কারণ ধনীর শিক্ষিত সন্তান দরিদ্রদের জন্য দুঃখী হয়ে বিবেক তাড়িত হয়ে সন্ত্রাসের উৎপত্তি ঘটাতে পারে।  আবার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের জন্য কোন দেশের ভিন্ন মতকে পুঁজি করে এবং উসকিয়ে সন্ত্রাস বা টেররিসমের উৎপত্তি ঘটানো হয়। সেই ক্ষেত্রে একদলের বিপরীতে আরেক দলকে সাহায্য করা হয়।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমন্নিত্ব কারণঃ আমি মুসলিমদের উদাহারণ দিয়ে আমার সাবেক লেখা (ফাতমী, ২০১৪) থেকে একটি ম্যাকানিজমের কথা উল্লেখ করলাম, পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধ এধরনের ম্যাকানিসমের ফল। আর যুদ্ধে সবাই হারে না, তাই যুদ্ধের শেষে সন্ত্রাস বা টেররিসম তৈরি হয়।

1. প্রথমে মুসলিমরা কিছু বিষয় পছন্দ করে না, যেমন মদ খাওয়া (মদ ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), অশ্লীলতার ব্যাবসা (অশ্লিলতার সাথে শত্রুতা), জুয়া খেলা (জুয়া ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), সুদ ব্যাবসা (সুদের ব্যাবসার সাথে শত্রুতা) ইত্যাদি। কিন্তু  এই সবের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ও যারা এই সব নিয়ে থাকে (পৃথিবীর বহু জনগণ এবং মুসলিমদের মধ্যেও কেউ কেউ) তারা এই সব কাজ না করা ব্যক্তিদের সাথে এক ধরনের পার্থক্য অনুভব করে। এই পার্থক্যের মনের অজান্তে বা জান্তে কারণে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে একটু হলেও নির্দোষ খারাপ হিসাবে দেখতে চায় (এখানে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত নয়, বিবেকবান মানুষেরা এর বাহিরে)। (কিছু কিছু) মিডিয়া এই বিষয়টা ধরতে পারে, এবং মুসলিমদেরকে খারাপ করে উপস্থাপনা করলে অথবা মুসলিমদের নিয়ে খারাপ খারাপ খবর চুজ ও পিক করে নিয়ে আসলে, বাজারে সেই খবর উপরে বর্নিত কারণে বেশী চলে। (কিছু কিছু) মিডিয়া “সেই খবরটাই” তুলে আনে যেটার বাজার মূল্য আছে, কারণ মিডিয়াকেও বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হয়। যে খবরটি বাজারে চলবে না, সেই খবর পাবলিশ করে মিডিয়ার লাভ কম। (বিদ্রঃ আমি বলছিনা সকল মিডিয়াই খারাপ বা মিডিয়া খারাপ, শুধুমাত্র সরলতার স্বার্থে সহজ ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে)
2. পরবর্তিতে, মিডিয়ার “সেই খবর” পড়ে, মানুষ আরো ক্ষিপ্ত হয়, তখন মিডিয়ায় এই বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামতের বিতর্ক তৈরি হয়। তখন রাজনিতিবিদরা সুযোগ-দেখে তাদের এজেন্সির দ্বারা ক্ষোভটাকে উসকিয়ে দেন এবং একে পুজি, অর্থ্যাত দমন করার নামে ভোটের রাজনিতিতে জয়লাভ করতে চেষ্টা করেন। ঘৃনা ব্যাবসা ভোটের রাজনিতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর।
3. সর্বশেষ পক্রিয়ায়, যখন তারা ভোটের রাজনিতিতে জয় লাভ করতে পারেন, তখন ইচ্ছা করেই গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ক্ষোভের ব্যাবসা চালু রাখতে সচেষ্ট হন এবং যুদ্ধ বানিজ্যের দিকেও এগিয়ে যান। যুদ্ধের উপর নির্ভর করে, অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি। সেজন্য অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি চায় কোথাও না কোথাও যুদ্ধ চলুক। সেজন্যই যুদ্ধ বন্ধ হয় না। অন্যদিকে রাজনিতিক দল গুলিরও ক্ষমতা ধরে রাখা দরকার, সেইজন্য সেও ঘৃনার চক্র চালিয়ে যায়, বা ধরে রাখে বা ধরে রাখতে হয় কারণ রাজনিতিবিদরা রাজনিতির প্রয়োজনে বিভিন্ন ইন্ড্রাস্টির কাছ থেকে ডনেশন নিয়ে থাকেন, এবং এ জন্য চাপ সব সময় তাদের উপর থাকে।
• কনসেপ্টঃ “ইন্ডাস্ট্রি চায়” মানে কোন একক ব্যাক্তির চাওয়া নয়, বরং এর সাথেযুক্ত হাজারো ব্যাক্তির চাওয়া একভূত হয়ে একটা শক্তিশালি চাওয়া যা বাজার দ্বারা কামান্ডকৃত, আসলে তা বাজারের প্রেসারে হয়ে থাকে। কারণ যে অস্র ইন্ড্রাস্টি, সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি, জুয়া ইন্ড্রাস্টি, মদ ইন্ড্রাস্টি  বাজার থেকে লোন নিয়ে চলে, এবং সেই লোন সুদ সহ পরিশোধ করার চাপ বাজার সব সময় দিয়ে থাকে।
তাছাড়াও, সামাজিক বিশৃংকলা, পারিবারিক কলহ, সমাজ থেকে আলাদা হয়ে থাকাও সন্ত্রাস এবং টেররিসমের অন্যতম কারণ।
মতবাদ ও ধর্মিয়ঃ
ধর্ম বা কোন মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য টেররিসম বা সন্ত্রাসের আশ্রয় মানুষ নিতে পারে। আবার টেররিসম বা সন্ত্রাস সে নিজের প্রয়োজনে ধর্ম বা কোন মতবাদকে ব্যাবহার করতে পারে। মানুষ তাঁর প্রতিটি কাজের পিছনে একটা কারণ খুঁজার চেষ্টা করে। আর এই কারণ খুঁজার চেষ্টা থেকে সে ধর্ম, অথবা দেশপ্রেম অথবা জাতি প্রেম অথবা গোত্রীয় প্রেম অথবা অন্যকোন মতবাদের আশ্রয় নেয়। Richardson, 2006, এর মতে, সন্ত্রাসের একটি ধর্মীয় অথবা সেকুলার দর্শন প্রয়োজন ‘ত্রাস’ কে জায়েজ করার জন্য, দল বড় করার জন্য, এবং দলকে কাজে লাগানোর জন্য। অর্থাৎ, বিভিন্ন কারণে উদ্ভূত সন্ত্রাস ধর্ম অথবা কোন মতবাদের আশ্রয় গ্রহণ করার চেষ্টা করে, এবং ঐ মতবাদ ব্যাবহার করে সন্ত্রাস তার বা তাদের সমর্থক বাড়ায় এবং দল-ভারী করে। এ জন্য Kullberg and Jokinen, 2004 এই উপসংহারে আসেন যে, কোন রাজনৈতিক দর্শন বা মতামত নিজেই সন্ত্রাস হতে পারে না, এবং সন্ত্রাস বা টেররিসম হতে পারে সন্ত্রাসী গুষ্টির দ্বারা ব্যবহৃত দর্শন এর মাধ্যমে।
মানসিক বা মনোবিজ্ঞান ঘটিতঃ
সন্ত্রাস মোকাবেলায় এই ইসুটি খুবই গুরুত্বপূর্ন।
• প্রতিশোধ পরায়ণতাঃ কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ভয়ংকর প্রতিশোধ পরায়ণ। তার প্রতিশোধ নিবার তাগিদে সন্ত্রাস চালায় এবং নিরীহ মানুষের সংজ্ঞা তাদের কাছে ভিন্ন হয়। একটা শিশু যদি কারো হাতে বা কোন যুদ্ধে তার সকল আপনজনকে হারায়, তাহলে সেও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারে। আবার সাধারণ অবস্থায় ও সন্ত্রাস তৈরি হতে পারে, কোন প্রতিশোধ পরায়ণ মানুষ প্রতিশোধ নিবার জন্য কোন দল বা গুষ্টিতে যোগদান করতে পারে। তথাপি যোগদানের পর সে উক্ত দলের দ্বারা ব্যবহৃতও হতে পারে।
• অনুরাগ বিষয়: সকল মানুষ জন্মগ্রহণ করে অনুরাগের প্রয়োজনীয়তা সাথে করে, তদ্বারা মা-বাবার (অথবা দায়িত্বশীলদের) দেখাতে হয়, বাচ্চাদের ইমোশনাল আনন্দ এবং ক্ষোভের ব্যাপারে সুন্দর (স্বাথ্যকর) প্রতিক্রিয়া (Chowdhury 2016)। কিন্তু অনেক বাচ্চারাই এ থেকে বঞ্চিত হন, এটা মা-বাবার দায়িত্বে অবহেলা থেকে হতে পারে। এই সব বাচ্চারা বড় হয়ে ত্রাসের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে পারে। আবার বিভিন্ন দল বা গ্রুপে যোগদান করতে পারে যা তাদের “গুরুত্বপূর্ণ” হিসাবে অনুভূতি সৃষ্টি করে। আর এভাবেই সন্ত্রাসী তৈরি হতে পারে।
• শয়তানের প্রভাব (The Lucifer Efect):  এটি Phillip Zimbardo এর The Lucifer Effect বই থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা যা করা হয়েছিল Standford University এর একটি পরীক্ষার ভিত্তিতে। পরীক্ষায় কিছু ছাত্রকে এক প্রকার জেলের পাহারাদার এবং কিছু ছাত্রদের জেলের বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছিল। দেখা গেল কিছুদিন পর, পাহারাদাররা বন্দীদের মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার করছে। অর্থাৎ, ক্ষমতা ও সুযোগ ভাল মানুষকেও খারাপ করে তুলতে পারে, “হাতে বন্দুক থাকলে নিরীহ কবুতরের দিকেও চোখ পরে”!!! এ বিষয় জানতে পড়ুন: Stanford prison experiment এবং The “Lucifer Effect”
• দাঙ্গাবাজ মানুষের ব্যাখ্যাঃ ধর্ম গ্রন্থ বা কোন সম্মানী মানুষের কথার ব্যাখ্যা কোন দাঙ্গাবাজ মানুষ দাংগা লাগানোর প্রয়োজন মত ব্যাবহার করতে পারে। এটা দাঙ্গাবাজদের অপব্যাখ্যাও বলা যেতে পারে। আর এই সব অপব্যাক্ষায় নিরীহ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে এবং এর সাথে যদি আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য মানসিক প্রভাব থাকে, তাহলেও সন্ত্রাসের উৎপত্তি ঘটতে পারে।

উপসংহারঃ সন্ত্রাস একটি ব্যাপক বিষয়, এবং এর সমাধান আছে ছোট ছোট ন্যায় সম্পন্ন কাজে। কিন্তু বাংলাদেশের একার পক্ষে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ এর চেয়ে সন্ত্রাস দমনে দরকার সঠিক পদক্ষেপ, আর সেটা করতে পারেন, মা-বাবা ভাই বোন, এবং সরকার করতে পারে সামাজিক ও আর্থিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাস দমনে দরকার সামাজিক ঐক্য ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা।

9 Comments

  1. I wish to get across my respect for your kindness in support of people who really want assistance with your theme. Your real dedication to getting the message along became exceedingly effective and has regularly empowered guys and women much like me to realize their ambitions. Your amazing useful advice signifies a whole lot a person like me and additionally to my mates. With thanks; from everyone of us.

  2. I as well as my friends ended up studying the nice helpful hints on your web blog and so all of the sudden got a horrible feeling I never thanked the web site owner for them. These people came absolutely joyful to see them and have now very much been enjoying them. I appreciate you for indeed being very helpful and then for making a choice on this form of really good subjects millions of individuals are really eager to be aware of. My personal honest apologies for not expressing appreciation to sooner.

  3. I want to show thanks to the writer for bailing me out of this particular incident. Right after checking through the internet and getting recommendations that were not productive, I assumed my life was done. Living devoid of the solutions to the difficulties you’ve resolved by way of your entire post is a serious case, as well as those that might have in a negative way damaged my entire career if I had not come across your web site. Your actual expertise and kindness in taking care of all areas was vital. I’m not sure what I would’ve done if I had not encountered such a solution like this. I can now relish my future. Thanks a lot very much for the professional and effective guide. I won’t think twice to refer your site to anybody who wants and needs recommendations on this area.

  4. I have to show my admiration for your kindness for men and women that require assistance with that niche. Your special commitment to passing the solution up and down had been amazingly beneficial and has frequently helped those like me to get to their desired goals. This important facts can mean this much a person like me and additionally to my peers. Warm regards; from each one of us.

  5. I must convey my gratitude for your kind-heartedness for women who really want guidance on this important topic. Your very own dedication to getting the message all-around ended up being pretty interesting and have without exception enabled professionals like me to achieve their aims. Your personal interesting advice denotes so much a person like me and especially to my peers. Many thanks; from all of us.

  6. I actually wanted to jot down a note in order to express gratitude to you for all of the magnificent tips and hints you are giving out on this site. My long internet lookup has finally been honored with reasonable facts and techniques to go over with my two friends. I ‘d claim that we website visitors actually are undeniably fortunate to live in a really good place with many marvellous professionals with great suggestions. I feel very much fortunate to have discovered your entire weblog and look forward to really more entertaining times reading here. Thanks once more for all the details.

  7. My spouse and i felt contented when Chris could finish up his homework through the entire precious recommendations he made from your web site. It is now and again perplexing just to choose to be freely giving helpful tips which some others could have been trying to sell. So we understand we have you to be grateful to for this. The explanations you have made, the simple site menu, the relationships your site help create – it is all extraordinary, and it is letting our son in addition to the family know that the topic is interesting, which is rather fundamental. Thank you for the whole lot!

  8. I’m writing to make you be aware of what a really good encounter my daughter went through reading your web page. She realized a lot of details, which include what it is like to possess a wonderful teaching style to get men and women without difficulty fully grasp a number of tortuous issues. You actually exceeded my expected results. Thanks for distributing those valuable, trustworthy, explanatory and in addition cool tips on the topic to Ethel.

  9. I am only commenting to make you understand of the awesome encounter our child found studying your web page. She came to find many pieces, not to mention what it is like to have a marvelous helping spirit to get other people without problems completely grasp certain advanced subject matter. You undoubtedly exceeded my expected results. Many thanks for delivering those valuable, healthy, edifying and even fun tips on this topic to Mary.

Leave a Reply

Your email address will not be published.