জনগনের আবেগকে ব্লাকমেইল করে গনতন্ত্র ধ্বংসের নগ্ন খেলায় মত্ত আওয়ামীলীগ !!!

১৯৭১সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বিরোধীতা করেছিল তাদের বিচার আপামর জনসাধারণ সবাই চায়।তবে সে বিচার প্রক্রিয়া যেনো দেশের অধিকাংশ জনগণ, আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত পায় সেটাই সবার কাম্য। আওয়ামীলীগ সরকার এই বিচার প্রক্রিয়াটা শুরু করার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারে কিন্তু এই বিচার প্রক্রিয়ায় আপামর জনগণ,আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ে আওয়ামীলীগ সরকার চরমভাবে ব্যার্থ হয়েছে। তাই বিচারের মাধ্যমে কলঙ্ক মোচন করার চেয়ে যেনো কলঙ্কটাকে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।এভাবে সব রাজাকারদের বিচার করেও দেশ কলংক মুক্ত হবে না কলঙ্ক আরো বাড়তেই থাকবে।অথচ একটা নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া হতে পারে আন্তর্জাতিক কোনো মাধ্যমের সহায়তায় দল,মত নির্বিশেষে সুন্দর ভাবে বিচার প্রক্রিয়াটাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। সেখানে হয়তো কারোরই আপত্তি থাকতো না।দেশ আজ এমনভাবে বিভক্ত যে আওয়ামীলীগ সরকারে থাকলে বিরোধীদল কখনো ন্যায়বিচার পায় বলে সাধারণ জনগনের কাছে প্রতীয়মান হয়না আবার বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধীদল ন্যায়বিচার পায় বলে সাধারণ জনগনের কাছে প্রতীয়মান হয়না।এটাই এই দেশের পুলিশ,বিচার সব বিভাগের বাস্তবচিত্র।অথচ স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার করার দায় শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের কিংবা বিএনপির নয়।এই বিচার চাওয়া ছিলো আপামর জনসাধারণের দাবি।দেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে কোনো দলের পক্ষেই আপামর জনসাধারণ, আন্ত্রর্জাতিক মহলের কাছ থেকে ন্যায়/অন্যায় যাহায় হোক না কেনো ন্যায়বিচার এর স্বীকৃত আদায় করা করা সম্ভব না।অবশ্য এর জন্য আমাদের আজকের রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থার দলীয়করণ,দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচার সহ অনিয়ম মূলত দায়ী।
আওয়ামীলীগ ব্রুট মেজরিটি নিয়ে গতবার ক্ষমতায় আসে।নির্বাচন নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকলেও এটা সত্য ১০০% নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও আওয়ামিলীগই সরকার গঠন করতো।গতবার জনমত আওয়ামীলীগের পক্ষেই ছিলো।এবার যেমন জনমত বিএনপি এর পক্ষে। আওয়ামীলীগের সামনে দারুন একটা সুযোগ এসেছিলো সবার ঐক্যমতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আওয়ামীলীগ মনে প্রাণে সেটা চায়নি। আপামর জনগনের সবচাইতে আবেগের জায়গা স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারকে তারা পুরোপুরি রাজনৈতিক ভাবে করতে চেয়েছে।আর তার ফলাফল আজকের চরম নৈরাজ্যকর বাংলাদেশ।এই বিচার নিয়ে আসলে আওয়ামীলীগ নোংরা খেলা খেলতে চেয়েছে।মুখে তারা স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্ক মুক্ত করবো বললেও তাদের অন্তরে ছিলো ঘৃণ্য বাসনা। তাদের উদ্দেশ্য আপামর জনগনের সবচেয়ে আবেগের এই জায়গাটা নিয়ে খেলা করা।তারা এই খেলাটি দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছে।এই খেলাটি তারা শেষ করতে চাইলে প্রথমেই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা হিসাবে জামায়াত ইসলামীকে তারা রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ করতে পারতো অনায়াসেই।কিন্তু আওয়ামীলীগ সেই কাজটি করবেনা।কারণ আওয়ামীলীগ জানে “স্বাধীনতা বিরোধী এই কার্ড টা হচ্ছে আওয়ামীলীগের জন্য সোনার ডিম পাড়া হাঁস।” কৃষকের মতো সব ডিম একবারে নেওয়ার লোভে হাঁসটাকে তারা মারতে চায়না।
আওয়ামি লিগ যদি সত্যি চাইত বাংলাদেশ থেকে জামায়াত কে যুদ্ধাপরাধ এর অপরাধে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হোক তো তাদের সেই সাংবিধানিক, আইনগত ক্ষমতা তাদের ছিল।কিন্তু, তারা এই ৫ বছরে জামায়াত কে নিষিদ্ধ করে নাই-তাদের ব্রুট মেজরিটি থাকা সত্ত্বেও। দেশের প্রতিটা মানুষের বাধায় মুখেও তারা সিস্টেম করে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করতে পারছে।গুলি করে মুড়ি মুড়কির মত মানুষ মারছে,আমেরিকার এত প্রেশার সত্ত্বেও গ্রামিন ব্যাঙ্ক দখল করছে-যার মানে তারা যেইটা করতে চায় তারা সেইটা করে, কাউরে পাত্তা দেয় নাই।কিন্তু জামায়াত এর রাজনিতি তারা বাতিল করে নাই।
জামায়াত নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন আসলেই তারা বলে এইটা কোর্ট এর করতে হবে তারা করতে পারবেনা।অথছ, এই দেশে বাংলা ভাই নিষিদ্ধ করা হইছে, হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ করা হইছে, পূর্ব বাংলা জনযুদ্ধ নিষিদ্ধ করা হইছে- কোন টাই কোর্ট এর আদেশে হয় নাই প্রসাশনিক ক্ষমতার বলে হইছে।নিষিদ্ধ না করে আওয়ামি লিগ জামায়াত শিবির কে কাল সাপ এর মত পালতাছে। আবার ঐ সাপ দিয়ে ছোবল মেরে শত্রু নিধন করতেছে, আবার মানুষ কে ভয় দেখাচ্ছে সাপ, সাপ, পালাও পালাও বলে।এর পর আবার সাপ এর বিষ এর ভেক্সিন ও বেচতাছে আওয়ামি যোদ্ধারা।এই টা শুধু ডবল স্ট্যান্ডার্ড না, ট্রিপল, কোয়াড্রাপোল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যাচ্ছে।লজ্জা শরম বিবেক বোধ থাকলে কারোর পক্ষে এইরকম ডবল স্ট্যান্ডার্ড না, ট্রিপল, কোয়াড্রাপোল স্ট্যান্ডার্ড কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব না।
আজকে আওযামী সরকার তার হাজার হাজার অন্যায়, জুলুম,নিপীড়ন এই জামায়াত-শিবির জুজুর ভয় দেখিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে কতো অবলীলায়।১৫৪ জন এমপি ভোটের আগেই নির্বাচিত।অথচ তাকে বলা হচ্ছে গণতন্ত্রের মানস কন্যা।বিবেক,লজ্জা বলে কিছু একটা আছে সেটা আমরা ভুলে গেছি।কারোরই কিছু বলার নেই।দুই-একজন সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাকে বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধ অপরাধীর সহযোগী হিসাবে।অবস্থাটা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে আজকে সরকারের জুলুম,শোষণ,নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই সে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শক্তির সহযোগী।অথচ এই আওয়ামীলীগই তাদেরকে নিষিদ্ধ না করে বাঁচিয়ে রেখেছে।আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক প্রয়োজনে জামায়াতকে বাঁচিয়ে রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে তবে পঙ্গু করে।
এক কাদের মোল্লার ফাঁসির (ন্যায় /অন্যায় যাহাই হোক) মধ্যদিয়ে দিয়ে আওয়ামীলীগ অলরেডি পাঁচ বছরের জন্য জনগনের ভোটের অধিকার হরণ করে নিয়েছে।জনগনের সবাই কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে ব্যাস্ত।কেই উল্লাস করছে কেউ হা হুতাশ করছে।আর এই সুযোগে ভোট ছাড়াই তারা সরকার গঠনের ম্যান্ডেট নিয়ে নিয়েছে।নির্বাচন কমিশন সহ প্রশাসন যন্ত্র কে নগ্ন ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে গনতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংশ করার নগ্ন উন্মাদোনায় তারা মত্ত। মিডিয়া দেখেও না দেখার ভান করছে।দুই একটা মিডিয়াতে কিছু ঘটনা আসলেও সরকার,প্রশাসন,সুশীল সমাজের কারোর যেনো কিছুই করার নেই।কারোর কোনো কিছুকেই সরকার কেয়ার করছেনা।ভাবটা এমন আমাদের যা ইচ্ছা তাই করবো।এইসব মেনে বাংলাদেশে থাকতে হলে থাকো নাহলে বাংলাদেশ থেকে বিদায় হোও।জোর যার মুল্লক তার।বিরোধীদের আন্দোলনেও তাই সহিংসতা বাড়ছে।আমরা সাধারণ জনগণ পড়েছি দুই বড় দলের মাইনাকাচিপায়।
কিছু কিছু মিডিয়া ,সুশীলরা এমন ভাব ধরতেছে যে রাজাকারের বিচার এর জন্য গনতন্ত্র ধ্বংশ হলে হোক। আপিল বিভাগের শুনানি পর্যালোচনা করলে ধারণা করা যায় বছরে ৪-৫ জনের বেশী বিচার করা সম্ভব না।কিন্তু তারা এইভাবে ৫০ জন এর বিচার করতে গেলে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর গনতন্ত্রকে বলির পাঠা বানাতে হবে।সহজ অর্থ দাড়াচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ এই বিচারেও ৫০জন রাজাকার মুক্ত করতে চাইলে আমাদেরকে ১০-১৫ বছর গনতন্ত্রকে বলির পাঠা বানাতে হবে।এই একবিংশ শতাব্দীতে এইটা কল্পনা করাও তো সাংঘাতিক ব্যাপার।
কতোটা অপদার্থ হলে আমরা বলতে পারি এখন চলছে একাদশ নির্বাচনের আলোচনা।এরপর একদশ নির্বাচনীও একই কায়দায় করে বলা হবে এখন চলছে দ্বাদশ নির্বাচনী আলোচনা।ততদিন জনগণ যাতে কোনো আন্দোলন না করতে পারে তারজন্য করা হবে এক বছর পরপর একটা করে ফাঁসির নাটক।এই নাটক এভাবে চলতেই থাকবে।কেউ ভোটাধিকার,গনতন্ত্রের কথা বলতে গেলে বলা হবে আপনারা কি চাননা বাংলাদেশ রাজাকার মুক্ত হোক?আওয়ামীলীগের এই ঘৃণ্য কৌশলের কাছে গনতন্ত্র আজ বড়ই অসহায়। জনগণ যত দ্রুত সরকারের এই ঘৃণ্য কৌশল বুঝে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ঝাপিয়ে না পড়ে ততোদিন সামনের দিনে এর মাশুল আরোও হাড়ে হাড়ে টের পেতে হবে।জনগনের ভোটাধিকার হরণের মাধমে কেবল শুরু হয়েছে –এরপর কি কি অধিকার হরণ করা হবে একমাত্র আল্লাহ এবং সরকারই ভালো জানে।