পাউবোর অপরিকল্পিত প্রকল্পে দুর্নীতি : দু’মাসেই কুয়াকাটায় ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে মাত্র দু’মাসের মধ্যে সরকারের ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত উন্নয়ন প্রকল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বিলীন হওয়ার পথে কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধের খাজুরা-মাঝিবাড়ি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ। এরই মধ্যে এ বাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধ ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধের অভ্যন্তরের ১০ সহস্রাধিক মানুষের নিরাপত্তা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নং পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের খাজুরা-মাঝিবাড়ি পয়েন্টটি সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটা এবং ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় সাগর থেকে ফুঁসে ওঠা জলোচ্ছ্বাসে বাঁধের ওই পয়েন্ট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড় আইলায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধের ওই পয়েন্ট। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বাঁধটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও পাউবো কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে নির্মাণের দু’মাসের মধ্যেই ভয়াবহ ফাটল ধরে। গত দু’মাসে সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় পশ্চিম পাশের বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় মূল বাঁধসহ প্রায় ৭০ ভাগ সাগরের উত্তাল ঢেউ গিলে খেয়েছে। ভাঙনের নির্মমতা ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কুয়াকাটার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকার শত শত মানুষ জানান, বাঁধের যে অবস্থা তাতে যে কোনো সময় এ বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা পানিতে প্লাবিত হতে পারে। ফলে গৃহহারা হয়ে পড়বে বাঁধের ভিতরের প্রায় কয়েক হাজার পরিবার। হুমকির মুখে রয়েছে কোটি কোটি টাকার আবাসিক হোটেলসহ পর্যটন কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
এ এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করেন, ‘কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধের ওই পয়েন্টটি হচ্ছে সাগর মোহনায়। ফলে সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় একই পয়েন্ট বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙন রোধের জন্য সিসি ব্লক তৈরি নিয়মমাফিক করা হয়নি।