ছাত্রাঙ্গনের সন্ত্রাস থামানো যাচ্ছে না কেন?

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এখন সংবাদের শিরোনাম। প্রতিনিয়ত তাদের নানা ধরনের আপত্তিকর কর্মকাণ্ড ছাত্র রাজনীতির সুনামকে নস্যাৎ করে দিলেও প্রতিরোধে সরকার বাহাদুরের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ হয়ে গেছে যে, দলীয় ছাত্রসংগঠনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পারছে না। তাদের কর্মকা-ের সকল রেকর্ড লিখলে সমাপ্তি টানা সম্ভব নয়। এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিপক্ষকে বিতাড়নসহ অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা তারা ঘটিয়ে চললেও টুঁ শব্দ করার সাহস কেউ করছে না। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকেরাও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের একটি গৌরবোজ্জল সোনালি অতীত ছিল। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-শিক্ষা আন্দোলন,’৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখা সংগঠনটি এখন সকল অপকর্মের হোতা হিসেবে সংবাদের শিরোনাম। ছাত্রলীগের অধঃপতন শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালেই যাত্রা শুরু করেছে। তাদের অপর্কমে বিরক্ত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে বলেছিলেন ছাত্রলীগ পচে গেছে গলে গেছে তাদের দিয়ে কিছু হবার নয়। এই হল ছাত্রলীগের সোনালী অতীত। ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় অধ্যায়ে কলংকের তিলক এই দেশে প্রথম ছাত্রলীগই লেপন করেছে। মুজিবের স্বপ্নের ছাত্রলীগ যখন দুঃস্বপ্নে চলে তখন তাদের কাছ থেকে হত্যা, খুন, টেন্ডারবাজি ব্যতীত আর কি আশা করা যেতে পারে?
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আইভী শামিম ওসমানের সমর্থকরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের অজস্র ঘটনা সারা দেশে ঘটে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা যখন প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিনা অপরাধে হামলা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। নিরীহ মহিলাদেরেকে কুরআন শিক্ষার আসর থেকে গ্রেফতার করতেও কুন্ঠাবোধ করছে না। সরকার বিরোধী মতালম্বীদের যেভাবে দমন করছে তার ছিটেফোঁটাও যদি ছাত্রলীগের ব্যাপারে করা হতো তাহলে ছাত্রলীগ এতটা বেপরোয়া হতো না। কোনো কোনো দেশে এমন আইন চালু আছে যে সব তরুণকেই বাধ্যতামূলকভাবে কিছুদিন সামরিক সার্ভিসে যোগ দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সে ধরনের আইন না থাকলেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হয়। নবাগত শিক্ষার্থী হিসেবে কেউ যদি হলে সিট পেতে চায় তাহলে তাকে ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দিতে হয়। আর যদি কেউ যোগ দিতে না পারে তাহলে তাকে কড়া মূল্যের মাশুল দিতে হয়। যেমনটি দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা আহমেদ। ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় রোকেয়া হলের ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে সারা রাত হলের বাহিরে অবস্থান করে প্রতিবাদ করেছে যা প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে।