বিএনপি’র মহাসমাবেশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাস

টানটান উত্তেজনা, ভয়ভীতি, সংশয়, সন্দেহ আর সেই সাথে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিএনপির আলোচিত মহাসমাবেশ। গতকাল দুপুর ২টায় পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশ শুরু হয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিসি’তির অবনতি, বিভিন্ন স্থাপনা থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা, ভারতের সাথে চুক্তি, টিপাইমুখ বাঁধ, বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর দমন-পীড়ন ও হামলা-মামলার প্রতিবাদে মাসব্যাপী বিভাগীয় মহাসমাবেশের অংশ হিসেবে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা তুলে ধরতে এবং সরকারদলীয় অঙ্গ সংগঠনের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ জানাতে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর একে একে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে মহাসমাবেশ করে দলটি। বিএনপি ঢাকার সমাবেশে ১০ লাখ লোকের সমাগমের দাবী করেছে। ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামে লংমার্চ, রোডমার্চ, গণমিছিল, মানববন্ধন, অনশন, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি তথা আগামী ২৭শে জুন সকাল-সন্ধ্যা হরতালসহ সিরিজ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বেগম জিয়া। এদিকে পল্টনের জনসভামুখী বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা বলছেন, সরকার সমর্থকদের পাশাপাশি প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়েও জনসভামুখী গড়িগুলোকে হয়রানি করছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও সরিষাবাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢাকা মহাসমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ছাত্র ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জুসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়।