পহেলা বৈশাখ ও জিহাদী হামলার আশংকা

“বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে, মঙ্গল শোভাযাত্রায় জিহাদী হামলা কি হতে পারে?” “জিহাদীদের প্রোপাগান্ডা চ্যানেলগুলিতে কি [এই ব্যাপারে] কোন বার্তা আসছে?”
“আল-কায়েদা বা আইসিস কি [এ বিষয়ে] কোন বিবৃতি দিয়েছে?”
এই প্রশ্নগুলির উত্তর অনেকেই জানতে চাইছেন আমার কাছে।
১. পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা বরাবরই জিহাদীদের টার্গেট। ২০০১ সালে রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনাটি আমাদের সবারই মনে আছে। ঐ ধরণের হামলার ঝুঁকি প্রতিবছরই থাকে, থাকবে। তারপরেও লক্ষ, লক্ষ মানুষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে, করবে। আমরা আশা করতে পারি প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ঢাকাসহ সারাদেশে মানুষ যেন আতংকিত না হয়ে নববর্ষ উদযাপন করতে পারে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।
২. আগের বছরগুলির তুলনায় এই বছর জিহাদীদের প্রোপাগান্ডা চ্যানেলগুলিতে পহেলা বৈশাখ নিয়ে আলাপ প্রায় নেই। যা আছে তাও খুব সিরিয়াস থ্রেট হিসেবে গণ্য করা যায় না। এই যে lack of chatter, সেটি যে খুব ভাল তাও বলার সুযোগ নেই।
৩. পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে আল-কায়েদা বা আইসিস স্পেসিফিক কোন বার্তা বা বিবৃতি দেয় নি। তবে গত সেপ্টেম্বরে আইসিস/ফুরাত যে ভিডিওটি প্রচার করেছিলো সেটিতে পহেলা বৈশাখের একটু আলাপ ছিলো — ১৪ মিনিটের ভিডিওতে ১ মিনিটের মতো।

আইসিসের ভিডিওতে পহেলা বৈশাখ।
ক. ক্লিপটিতে মঙ্গল শোভাযাত্রার ফুটেজ দেখানো হয়েছে “পাপাচারের” উদাহরণ হিসেবে।
খ. মঈনুদ্দিন খাঁন বাদলের কিছু কথার ফুটেজ আছে, যেখানে বলা হচ্ছে তিনি মুর্তাদ। বাদলের মূল বক্তব্য: লক্ষ, লক্ষ লোক যতদিন রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে, মঙ্গল শোভাযাত্রা করে নববর্ষ উদযাপন করবে ততোদিন বাংলাদেশে “জঙ্গীবাদ” পরাভূত হবে। ভিডিওটির ধারাভাষ্যকারের (তাহমিদ রহমান) মতে এহেন বক্তব্য খুবই “অসার”। এরপরেই ভিডিওটির টাইটেল ট্রানজিশন হয়।